ঘুষ ছাড়া মেলে না জমি অধিগ্রহণের টাকা
![]() |
| ঘুষ না দেওয়ায় অধিগ্রহণ তালিকায় নাম ওঠেনি ভবনটির মালিক সিরাজ মিয়ার |
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা জমি ও স্থাপনার ক্ষতিপূরণের অর্থছাড় করাতে দিতে হয় ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ঘুষ। ঘুষ না দিলে মেলে না অধিগ্রহণের অর্থ। এমনকি অধিগ্রহণ করা জমির তালিকা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে এবং টাকা না দিলে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান না অনেকে। এসব কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেকের নাম জমি অধিগ্রহণ তালিকায় ওঠেনি। সমকালের কাছে এসব অভিযোগ করেন বেলাব উপজেলার চরউজিলাব ইউনিয়নের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বারৈচা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো মোস্তুফা কামাল, সার্ভেয়ার মাহাবুব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাঈম এসব অনিয়মে জড়িত। তাদের কারণে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন অধিগ্রহণ করা ভূমি ও স্থাপনার মালিকরা। তারা জানান, তাদের অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ ছাড় করাতে দিতে হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ঘুষ। অভিযুক্তদের চাহিদামতো ঘুষ দিতে চুক্তিবদ্ধ হলে জমি ও স্থাপনার দামেরও হয় বেশ পার্থক্য।
জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পের জন্য নরসিংদীর ৫২ কিলোমিটার অংশে অধিগ্রহণ করা হচ্ছে ১৮২ একর জমি। এর মধ্যে পড়েছে বেলাব উপজেলার ধুকুন্দি, বারৈচা, দড়িকান্দি, নোয়াকান্দি, আমিনপুর, নারায়ণপুরসহ বেশ কিছু এলাকার জমি ও স্থাপনা। এসব এলাকার মধ্যে শুধু বারৈচা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়ক সম্প্রসারণের আওতায় পড়েছে কয়েকশ বাসিন্দার জমি, স্থাপনা ও দোকানপাট।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, নরসিংদী জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো মোস্তুফা কামাল জমিতে থাকা গাছপালা, দোকানপাট, স্থাপনা লিপিবদ্ধ করে নিয়ে যান। পরে তাদের কাছে অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলনের জন্য শতকরা ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে ঘুষ দাবি করেন মোস্তুফা কামাল।
বারৈচা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সওদাগর হোটেল অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে আমার ৭ শতাংশ জমি পড়েছে। উল্লিখিত জায়গার মধ্যে আমার ৫ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একটি বিল্ডিং করেছি। যার তিন তলা সম্পন্ন হয়েছে। কানুনগো মোস্তুফা কামাল আমার কাছে বলেছেন, তাঁকে ২০ শতাংশ ঘুষ দিলে আমার জায়গা ও ভবনটার ন্যায্যমূল্য দিয়ে দেবেন। কিন্তু আমি তাঁর কথামতো ঘুষ না দেওয়ায় আমার বিল একেবারে কম পাস করেছেন। আমার ভবনের তথ্য ও ক্ষতিপূরণের অর্থ পাসই করেননি। শুধু জায়গা ও অন্যান্য স্থাপনা বাবদ আমার ৬৯ লাখ টাকা পাস করেছেন। অথচ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আমার ভবন ও জায়গার বর্তমান মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। আমি যদি তাঁকে ২০ শতাংশ হারে ঘুষ দিতে পারতাম, তাহলে আমার ৩ কোটি টাকার বিলই পাস করতেন। আমি ন্যায্যমূল্য পেতে হাইকোর্টে মামলা করেছি।’
